সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় যশোর শহর। এতে দুর্ভোগে পড়ে শহরের মানুষ। বছরের পর বছর এই অবস্থা চলে আসলেও সমাধানে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে জলাবদ্ধতার জন্য পৌরসভা, সওজ ও রেলওয়ে একে অপরকে দুষছে। যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শংকরপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং রেলওয়ের ছোট দুটি কালভার্টের কারণে বৃষ্টি ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পৌরসভার অভিযোগ সত্য নয় বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতায় এক রকম যশোর শহর বন্যার রূপ নেয়। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বেশির ভাগ এলাকা। শহরের তুলনামূলক নিচু এলাকায় যেখানে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে সেসব স্থানে রীতিমতো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ স্থানে হাঁটুসমান পানি, কোথাও কোথাও মাজাসমান পানি জমে। বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। শহরের বহু রাস্তা ও গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট পানিতে থৈ থৈ করে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, শহরের অন্তত ৩০টির বেশি প্রধান সড়কে পানি জমে যায়। এ ছাড়াও অসংখ্য লেন বাইলেনে থাকে পানি। খড়কি এলাকার শাহ্ আবদুল করিম সড়ক, স্টেডিয়ামপাড়া, শহরের পিটিআই, নাজির শংকরপুর, ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে পাইপপট্টি, বেজপাড়া চিরুনিকল, আশ্রম রোড, শংকরপুর, রেলরোড, মিশনপাড়া, রেলস্টেশন, চোপদারপাড়া, বেজপাড়া তালতলা, টিবি ক্লিনিক মোড়, পুরাতন কসবা, পুলিশ লাইন টালিখোলা, বিমানবন্দর রোড ও ষষ্ঠীতলাপাড়ার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়াও শহরের ছোট ছোট সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব সড়কের দুই পাশের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত নোংরা পানি উপচে পড়ে সড়কে। সড়ক ছাপিয়ে সেই পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন জানান, শংকরপুরের ড্রেন দিয়ে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশন হয়। সেখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দুটি কালভার্ট আছে। ভারি বৃষ্টি হলে কালভার্ট দুটি দিয়ে পানি বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। কারণ পানি বের হতে যতটুকু জায়গা দরকার, সে রকমভাবে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। এ বিষয়ে দুই কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ হাসান জানান, ভারি বৃষ্টির পানি বের হতে কালভার্টের নিচে যতটুকু জায়গা দরকার। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও রেলওয়ের কালভার্ট সেভাবে নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে ভারি বৃষ্টি হলে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে এক সপ্তাহ আগে রেলওয়ের বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ও যশোর সড়ক এবং জনপথ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা জানান, পৌরসভার অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের নির্মাণ করা কালভার্ট ও রেলওয়ের কালভার্ট জলাবদ্ধতার কারণ নয়। সেখানকার যে ড্রেন দিয়ে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানি মুক্তেশ্বরী নদীতে যায়, সেই ড্রেন ধারে কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি নির্মাণের কারণে ড্রেন সরু হওয়ায় পানি বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
যশোর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী চাদ আহমেদ জানান, শংকরপুরে আমাদের নির্মাণ করা কালভার্ট ১৩ ফিট লম্বা ও ১০ ফিট চওড়া। তাতে পানি আটকানোর কথা না। পৌরসভার ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই জলাবদ্ধার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিতে হবে পৌরসভার।
ভুক্তভোগী আশরাফুল আজাদ, মতিয়ার রহমান, নজরুল ইসলাম, জাহিদ হাসানসহ অনেকে জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থায়ী সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

