ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কর্মসূচি পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৭৭ জন মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮৬টি গবাদি পশুকে ভেটেরিনারি সেবাও প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবি জানায়, পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি ও চক্ষুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী সকল রোগীর মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

একই সময়ে পরিচালিত ভেটেরিনারি ক্যাম্পে ১৮৬টি গবাদি পশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় পশুপালকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, উপ-অধিনায়ক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, বিজিবির অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করে আসছে বাহিনীটি। ভবিষ্যতেও দেশের সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।