ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বাকিতে মাল না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকি, শ্রমিকদল নেতা সাময়িক বহিষ্কার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাকিতে মোটর পার্টস না দেওয়ায় মানিকগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাহিনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা শ্রমিকদল।

লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. মিলন মিয়া জানান, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হলিগার্ডেন মার্কেটে অবস্থিত তার ইস্রাফিল মোটরস দোকানে এসে শাহিন বাকিতে মোটর পার্টস দাবি করেন। তিনি বাকিতে পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান।

এর আগে একই দিন বিকেলে শাহিনের পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দোকানে এসে মবিল, ফিল্টারসহ বিভিন্ন মোটর পার্টস বাকিতে নিতে চান। মিলন রাজি না হলে ওই ব্যক্তি শাহিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকেও শাহিন বাকিতে মাল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও গালিগালাজ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই রাতেই শাহিন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে দোকানের সামনে এসে দাঁড়ান এবং দোকান থেকে বের হলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেন। আতঙ্কে সেদিন রাতে স্বজনদের সহায়তায় বাড়ি ফিরে যান মিলন। পরদিন ১৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে শাহিন আবার দোকানে এসে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে শাহিন বলেন, আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করব। তুই যদি বেশি কথা বলিস বা আমাকে বাকিতে মোটর পার্টস না দিস, তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলব, তোর লাশ গুম করে দেব। পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ফুটেজে শাহিনকে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে উত্তেজিত আচরণ, উচ্চস্বরে গালিগালাজ এবং দোকান থেকে বের হলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সোমবার রাতে ব্যবসায়ী মিলন মিয়া মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

অভিযোগ ওঠার পর জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন প্রথমে দাবি করেন, সংগঠনে শাহিন নামে তিনজন নেতা রয়েছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কমিটির কেউ নন। তবে পরে তিনি বক্তব্য সংশোধন করে স্বীকার করেন, অভিযুক্ত মো. শাহিন জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটনের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে শাহিনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকদল নেতা মো. শাহিন ব্যবসায়ী মিলনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।