ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে রিটের আদেশ কাল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
হাইকোর্ট।ছবি- সংগৃহীত

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে দায়ের করা রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ করে আদেশের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

রিটে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফল বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার ও বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ–২০২৫)’ শীর্ষক ঘোষণাপত্রও বাতিল চাওয়া হয়েছে। এ মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, গণভোট পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ঘটেছে, যা গণভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব কারণে ঘোষিত ফলাফল আইনসম্মত ও বৈধ নয় বলে দাবি করেন রিটকারী।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের কাছে গণভোটের ফলাফল বাতিল করে পুরো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। রিটকারী দাবি করেন, অভিযোগগুলো বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আইনজীবী তৌহিদ বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ বিবেচনায় এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যদি গণভোট প্রক্রিয়া অনিয়মমুক্ত ও স্বচ্ছ না হয়, তবে সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ঘোষিত ফলাফল বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।