ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

পালাতে ও অস্ত্র লুকাতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করলেন ফয়সালের বাবা-মা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১০:৪৭ পিএম
ফয়সালের বাবা-মা। ছবি- সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা ও মা। তারা আদালতে স্বীকার করেছেন, ঘটনার পর ছেলে ফয়সালকে পালাতে এবং অস্ত্র লুকাতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন তারা।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শুটার ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগমের (৬০) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক খাস কামরায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় র‌্যাব-১০-এর বিশেষ অভিযানে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, ঘটনার পর ছেলে ফয়সাল তাদের কাছে এসে সাহায্য চাইলে তারা তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন। ফয়সালের ব্যবহৃত ব্যাগ ও অস্ত্র নিরাপদে সরিয়ে রাখার কাজেও তারা ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া ও নগদ অর্থও সরবরাহ করেন।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার রাতে ফয়সাল একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বাসার চিপা দিয়ে ব্যাগটি ফেলে দেন এবং ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে সেটি আবার উদ্ধার করান।

এ সময় নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি তিনি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি মায়ের কাছে রেখে দেন। এরপর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে নিজের অবস্থান অনিরাপদ মনে হওয়ায় আগারগাঁও ছাড়েন। প্রথমে মিরপুর, পরে শাহজাদপুরে তার চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় আশ্রয় নেন।

পরে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির তাকে একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং সঙ্গে কিছু টাকা দেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কেরানীগঞ্জে গিয়ে জুরাইন এলাকা থেকে দুটি নতুন সিম কিনে ব্যবহার শুরু করেন তারা।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি একটি রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুজনের একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন হাদি। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গুলিবর্ষণে সরাসরি জড়িত ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন। এরই মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একই সঙ্গে ফয়সালকে পালাতে গাড়ি দিয়ে সহায়তাকারী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকেও গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।