সংসদ নির্বাচনের ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেও দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়নি।
এক দফা পিছিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীকাল বুধবার ইশতেহার ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিএনপি কবে ইশতেহার দেবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও দলটির নেতারা জানিয়েছেন, দু–এক দিনের মধ্যেই ইশতেহার প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হবে।
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এর আগে রোববার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার ইশতেহার ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনিবার্য কারণে এক দিন পিছিয়ে বুধবার ইশতেহার প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এবারের ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াতের ইশতেহারে দুর্নীতি দমন, সুশাসন, মানবাধিকার, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ইশতেহার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেষ পর্যায়ে ঘষামাজা করে চূড়ান্ত করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সারাদেশে চলমান নির্বাচনী সফর শেষ করার পর ইশতেহার প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার বরিশাল বিভাগীয় জনসভা শেষে পরদিন বৃহস্পতিবার ইশতেহার ঘোষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলের ইশতেহারে প্রতিহিংসা বা জিঘাংসার রাজনীতি নয়; বরং জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দলের ঘোষিত আটটি অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নীতির কাঠামোও তুলে ধরা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি এরই মধ্যে এসব নীতিগত অবস্থান কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করেছে। এতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা কীভাবে জোরদার করা হবে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার সংস্কার, বাজেট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতিসহ নানা বিষয় ইশতেহারে তুলে ধরা হবে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

