ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

চীনের কিমি এআই

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:৩৪ এএম

চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মুনশট এআই নতুন ওপেন সোর্স ভাষা মডেল কিমি কে৩ উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কিমি কে৩ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক এআই মডেল ক্লদ ফেবল ৫ (ঈষধঁফব ঋধনষব ৫) এবং জিপিটি ৫.৬ সল (এচঞ ৫.৬ ঝড়ষ)-এর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, বিভিন্ন মূল্যায়নে এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। স্বাধীন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান অৎবহধ.ধর ও ঠধষং অও-এর বিশ্লেষণেও কিমিকে শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিমি কে৩-এর ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্সে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে যায় এবং এনভিডিয়াসহ কয়েকটি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও নি¤œমুখী হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের একাংশ চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে ভবিষ্যৎ এআই প্রতিযোগিতার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কিমি কে৩-এর উন্মোচন ২০২৫ সালে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের আর১ মডেল প্রকাশের সময়কার আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তীব্র।

মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এআই নীতিনির্ধারক ডেভিড স্যাকস কিমির অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বাধা এবং কঠোর বিধিনিষেধ দেশটির উদ্ভাবনকে ধীর করে দিতে পারে। তার ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি অ্যানথ্রপিকের ক্লদ মডেলের অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক সীমাবদ্ধতারও সমালোচনা করেন।

এদিকে উবারের সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিক অভিযোগ করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন এআই মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে নিজেদের মডেল উন্নত করছে, যাকে ‘ডিস্টিলেশন’ বলা হয়। তবে গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, প্রযুক্তি উন্নয়নে জ্ঞান বিনিময় এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা এবং পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠানও চীনের গবেষণা ও ওপেন সোর্স প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের কৌশলগত ভবিষ্যৎ বিভাগের প্রধান ডিন বল কিমি কে৩-এর সক্ষমতার প্রশংসা করলেও সতর্ক করেছেন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে। তার মতে, ভবিষ্যতে শক্তিশালী ওপেন সোর্স মডেলগুলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এজন্য সরকারগুলো সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নীতিগত ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার মাধ্যমে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করার পথ বেছে নিতে পারে।