ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন যশোর

বিল্লাল হোসেন, যশোর
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় যশোর শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বছরের পর বছর এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে জলাবদ্ধতার কারণ নিয়ে যশোর পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দায়ী করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। শহরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তুলনামূলক নিচু এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি বন্যায় রূপ নেয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। শহরের বিভিন্ন সড়ক এবং আশপাশের মাঠঘাটও পানিতে তলিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, শহরের অন্তত ৩০টির বেশি প্রধান সড়কে নিয়মিত পানি জমে। এর মধ্যে খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, স্টেডিয়ামপাড়া, পিটিআই এলাকা, নাজির শংকরপুর, ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে পাইপপট্টি, বেজপাড়া চিরুনিকল, আশ্রম রোড, শংকরপুর, রেল রোড, মিশনপাড়া, রেলস্টেশন, চোপদারপাড়া, বেজপাড়া তালতলা, টিবি ক্লিনিক মোড়, পুরাতন কসবা, পুলিশ লাইন, টালিখোলা, বিমানবন্দর সড়ক ও ষষ্ঠীতলাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ ছাড়া অসংখ্য অলিগলিতেও পানি জমে থাকে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি উপচে সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন বলেন, শংকরপুরের ড্রেন দিয়ে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশন হয়। সেখানে সওজ ও রেলওয়ের দুটি ছোট কালভার্ট রয়েছে। ভারি বৃষ্টির সময় এসব কালভার্ট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত হতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় ধারণক্ষমতা বিবেচনায় কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে দুই সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, ভারি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কালভার্টের নিচে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান কালভার্টগুলোতে সেই সক্ষমতা নেই। ফলে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে এক সপ্তাহ আগে রেলওয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ও যশোর সওজ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে পৌরসভার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন যশোর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা। তিনি বলেন, সওজ ও রেলওয়ের কালভার্ট জলাবদ্ধতার কারণ নয়। ওই এলাকার পানি যে ড্রেন দিয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যায়, তার পাশে একটি কেমিক্যাল কারখানার নির্মাণকাজের কারণে ড্রেন সরু হয়ে গেছে। ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

যশোর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, শংকরপুরে রেলওয়ের নির্মিত কালভার্ট ১৩ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া। এ কালভার্টে পানি আটকে থাকার কোনো কারণ নেই। তার দাবি, পৌরসভার ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে পৌরসভাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

ভুক্তভোগী আশরাফুল আজাদ, মতিয়ার রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাহিদ হাসানসহ স্থানীয়রা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান চান তারা।