ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

খালের ৫৮টি কৃত্রিম বাঁধ ও জাল অপসারণ

এম. জুবাইদ, পেকুয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রবাহমান খালে নির্মিত ৫৮টি অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ এবং স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ চৌধুরীর নেতৃত্বে গ্রামপুলিশ সদস্যদের নিয়ে মটকাভাঙা খালে অভিযান শুরু হয়। প্রথমে নুরুল আলমের নির্মিত একটি বাঁধ অপসারণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছিলেন। ফলে বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে অন্তত ২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৃষিজমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে ছিল। স্থানীয়দের আশা, অবৈধ বাঁধ অপসারণের ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় পেকুয়া-চকরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ চৌধুরী বলেন, সরকারি খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সবধরনের অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম অভিযানটি সর্বক্ষণিক তদারকি করেন। এ সময় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, পরিষদ সচিব মো. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।