ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ম্রো সম্প্রদায়ের ৩৫ শিক্ষার্থীর একমাত্র স্কুল পুনর্গঠনে প্রশাসনের উদ্যোগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৩:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সাক্লানপাড়ায় অতিবৃষ্টিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ম্রো সম্প্রদায়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করতে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সম্প্রতি আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম সাক্লানপাড়ার একটি স্কুলঘর অতিবর্ষণের কারণে সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ধ্বংসপ্রাপ্ত ম্রো পাড়ার স্কুল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়টি নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

পোস্টে তিনি জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এই বিদ্যালয়ে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতেন দুইজন শিক্ষক। বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ লেখেন, ম্রো সম্প্রদায় দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর একটি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে তাদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্থানীয়দের কাছে এই স্কুলটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর উপজেলা সদর থেকে লোক পাঠিয়ে ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দুর্গম ওই এলাকায় যেতে ঝিরিপথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ সময় ট্রেকিং করতে হয়। পরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুল পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে সাক্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

আগের স্কুলঘরটি যে স্থানে ছিল, সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছুটা নিরাপদ স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন ভবনে পাহাড়ি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাইবাল মোটিফ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ আরও জানান, নতুন স্কুলে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, বোর্ডসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিআর বরাদ্দের আওতায় ৮ টন চাল দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই অর্থ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হচ্ছে। এছাড়া অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা স্কুল নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ বান্ডেল ৩৪ মিমি কালার টিনও সরবরাহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং আগের চেয়ে উন্নত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে।