রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে রোজা সহিহ ও কবুল হওয়ার জন্য এর সঠিক মাসায়েল বা নিয়মাবলি জানা অপরিহার্য। অনেক সময় না জানার কারণে ছোটখাটো বিষয়ে রোজাদাররা বিভ্রান্তিতে পড়েন। নিচে রোজার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসায়েল প্রতিবেদনের আকারে তুলে ধরা হলো:
১. রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ
রোজার মৌলিক শর্ত হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকা। তবে নির্দিষ্ট কিছু কাজ রোজা ভেঙে দেয়:
ইচ্ছাকৃত পানাহার : জানাশোনা অবস্থায় কিছু খেয়ে ফেললে বা পান করলে রোজা ভেঙে যাবে।
বমি করা : যদি কেউ মুখ ভরে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (তবে অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙে না)।
ধূমপান: বিড়ি-সিগারেট বা হুক্কা সেবন করলে রোজা ভেঙে যায়।
জৈবিক মিলন : রোজা অবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে রোজা ভেঙে যায় এবং এর জন্য কঠোর 'কাফফারা' (টানা ৬০টি রোজা) ওয়াজিব হয়।
২. যেসব কাজে রোজা ভাঙে না (ভ্রান্ত ধারণা নিরসন)
অনেকেই মনে করেন নিচের কাজগুলোতে রোজা ভেঙে যায়, যা আসলে ভুল:
ভুলে খেয়ে ফেলা : যদি কেউ রোজা থাকার কথা ভুলে গিয়ে কিছু খেয়ে ফেলে বা পান করে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথে তা মুখ থেকে বের করে ফেলতে হবে।
চোখে সুরমা বা ড্রপ দেওয়া : চোখে ড্রপ বা সুরমা ব্যবহার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
ইনজেকশন বা ইনসুলিন : জীবন রক্ষাকারী বা শক্তিদায়ক নয় এমন ইনজেকশন বা ডায়াবেটিসের ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙে না।
স্বপ্নদোষ : ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না, তবে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি।
মিসওয়াক করা : রোজা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় কাঁচা বা শুকনো কাঠি দিয়ে মিসওয়াক করা জায়েজ।
৩. মাকরুহ বা অনুচিত কাজ
রোজা ভঙ্গ না হলেও কিছু কাজের কারণে রোজার সওয়াব ও পবিত্রতা কমে যায় :
অকারণে কোনো কিছু মুখে দিয়ে চিবানো।
ঝগড়া-বিবাদ, গিবত বা মিথ্যা কথা বলা।
টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত মাজা (এটি গলার ভেতর চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে মাকরুহ হয়)।
৪. অসুস্থ ও মুসাফিরের বিধান
ইসলাম অত্যন্ত সহজ একটি ধর্ম। তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে রোজা শিথিল করা হয়েছে:
অসুস্থ ব্যক্তি : যদি রোজা রাখলে রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে, তবে রোজা ভাঙা জায়েজ। পরবর্তীতে সুস্থ হলে তা কাজা করে নিতে হবে।
মুসাফির : সফরের কষ্টে থাকলে রোজা না রেখে পরে কাজা করা যায়।
ফিদিয়া: যদি কেউ অত্যন্ত বৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ হন এবং রোজা রাখার সামর্থ্য চিরতরে হারিয়ে ফেলেন, তবে প্রতিটি রোজার বদলে একজন মিসকিনকে দুবেলা খাবার (ফিদিয়া) প্রদান করবেন।
৫. সেহরি ও ইফতারের সুন্নত
সেহরি : দেরি করে সুবহে সাদিকের ঠিক আগমুহূর্তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরা থাকলেও অন্তত এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর খাওয়া বরকতময়।
ইফতার : সময় হওয়ার সাথে সাথে দেরি না করে ইফতার করা সুন্নত। খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা উত্তম।
রমজানের প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সঠিক জ্ঞান ও ইখলাস। রোজার বাহ্যিক নিয়ম পালনের পাশাপাশি মনের পবিত্রতা রক্ষা এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকাই হলো সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন