ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

যেভাবে দেবেন আজানের জবাব

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে আজানের জবাব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শুধু নামাজের সময়ের ঘোষণা নয়; বরং এটি মানুষের প্রতি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মহৎ আহ্বান। তাই আযান শুনলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল।

আজানের জবাব দেওয়ার নিয়ম

আজান শুনলে মুয়াজ্জিন যা বলেন, তা-ই পুনরাবৃত্তি করা সুন্নত। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলবে, তা-ই বলো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৩)

তবে আজানের কয়েকটি বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। আজানের বাক্য এবং তার জবাব নিচে তুলে ধরা হলো—

মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
জবাব: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।

মুয়াজ্জিন: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
জবাব: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

মুয়াজ্জিন: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ।
জবাব: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ।

মুয়াজ্জিন: হাইয়্যা আলাস সালাহ এবং হাইয়্যা আলাল ফালাহ।
জবাব: ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই)।

মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
জবাব: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।

মুয়াজ্জিন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
জবাব: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

ফজরের আযানে ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ (নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম) বলা হলে এর জবাবে বলা হয়, ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’ (তুমি সত্য ও ন্যায় কথা বলেছ)।

আজান শুনলে করণীয়

আজান শুনলে মনোযোগ সহকারে তা শোনা উচিত। কথাবার্তা বা অন্য কাজ বন্ধ রেখে মুয়াজ্জিনের বাক্যগুলোর জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। আযানের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করা হয়, আর তার জবাব দিয়ে একজন মুমিন সেই ঘোষণায় শরিক হন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনে তা পুনরাবৃত্তি করে, শয়তান তার কাছ থেকে দূরে পালিয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৯)

আজানের পরের দোয়া

আযান শেষ হওয়ার পর একটি বিশেষ দোয়া পড়া সুন্নত। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আযানের পর এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৪)

দোয়াটি হলো—

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দা‘ওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাতা, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়া‘আদতাহু, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মি‘আদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রতিপালক, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ওয়াসিলা (সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান) ও সুমহান মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।

মোবাইলে আজান শুনলেও জবাব দেওয়া যায়

বর্তমানে অনেকেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আযান শুনে থাকেন। এমন ক্ষেত্রেও আযানের জবাব দেওয়া যায়। তবে মসজিদ থেকে সরাসরি ভেসে আসা আযানের জবাব দেওয়ার মর্যাদা বেশি।

গাড়ি চালানোর সময় বা কর্মব্যস্ততার মধ্যেও মনে মনে আযানের জবাব দেওয়া যেতে পারে। আযান শেষ হলে সুন্নত দোয়াটি পড়ারও পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই আযানের জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় নারীদের আযানের জবাব না দেওয়ার কথা ফিকহের কিছু গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

আযানের জবাব দেওয়া একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তাই আযানের ধ্বনি কানে পৌঁছামাত্র অন্যান্য কাজ থামিয়ে মুয়াজ্জিনের বাক্যের জবাব দেওয়া এবং পরবর্তী দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে এই সুন্নত জীবন্ত রাখা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।