ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে হট্টগোল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানকে ঘিরে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোল হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, জিসান প্রধান নিখোঁজ ছিলেন না; বরং বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (১৪ জুন) সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তবে তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১২ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় জিসান প্রধান নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মন্ত্রী আরও জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীকালে ওই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিয়ের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি হলে জিসান আত্মগোপনে যান এবং পরে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জিডি করা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।

তিনি বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জিসান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট নারীকে খুঁজে বের করে। পরে ওই নারী জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জিসান প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছিল। তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং জিসান প্রধানের বর্তমান অবস্থান ও ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তাহেরের বক্তব্যের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। এদিকে সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনাটি কেন্দ্র করে সংসদে বেশ কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।