ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন।

বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। এরপর ইন্টারপোলের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে তার বিরুদ্ধে থাকা সতর্কতা (রেড নোটিশ) পাওয়া যায়। পরে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে।

রোববার বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাকে দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কেমন ছিলেন বেনজীর

বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এই সময়কালে ১৫ জন গুম এবং ২০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত। ওই দীর্ঘ পাঁচ বছরে গুমের সংখ্যা ছিল ২৫৫ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৪৫০ জনে।

অর্থাৎ, তার দায়িত্ব পালনকালীন মোট ২৭০টি গুম ও ১,৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে এই চিত্র পাওয়া যায়।

এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে (নির্বাচনের বছর) সর্বোচ্চ ৩৫৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একই বছরে গুমের শিকার হয়েছিলেন ৩৪ জন। সর্বোচ্চ ৯৭টি গুমের ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে। এই সময়টাতে বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞার পর আরও ৯ মাস তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই ৯ মাসে অন্তত ১০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

গত বছর তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক পৃথক চারটি মামলা করে বলে জানা যায়।

 

সূত্র : রূপালী প্রতিবেদক ও বাংলা ফ্যাক্ট।