ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

তরুণদের প্রযুক্তির উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমাদের তরুণদেরকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয় বরং প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, সে জাতি অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তত এগিয়ে। তাই বিজ্ঞানচর্চা কেবল একটি একাডেমিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

রোবাবর (১৪ জুন) ঢাকায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক, উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনযাত্রাকে করেছে সহজতর, সমৃদ্ধ ও উন্নত। বর্তমান বিশ্বে যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, সে জাতি অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তত এগিয়ে যায়। তাই বিজ্ঞানচর্চা কেবল একটি একাডেমিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

​তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আমাদের লক্ষ্য একটি উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা-সক্ষম প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম।

​মন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে, প্রতিটি বড় আবিষ্কারের শুরু হয়েছিল একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। তাই প্রশ্ন করতে শিখতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে শিখতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শিখতে হবে এবং ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের সাহস অর্জন করতে হবে তোমাদের।

​অনুষ্ঠানে ক্ষুদে উদ্ভাবকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-কে। যে মহান নেতা ১৯৭৮ সালে তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী শক্তি দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা শুরু করেছিলেন। আজ সেই বিজ্ঞান মেলার ৪৭তম আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করছি।

মন্ত্রী বলেন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ফিউচার জেনারেশনের প্রজেক্ট।  রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ  প্লান্টে বিজ্ঞানী হয়ে আমাদের ছেলেরা প্লান্টে জয়েন করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। স্বপ্ন দেখতে হবে, লক্ষ্য স্থির করতে হবে। ধৈর্য্য হারা হবেনা হবেনা, লেগে থাকবা, কখনও লক্ষ্য হতে সরে যেওনা। তোমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। ভালো করলে আত্নীয় স্বজন সবাই গর্ব করবে।  বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য আমাদের সরকার ১০ লাখ টাকা করে দিচ্ছে। যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যাবে তাদের পাশে আমাদের সরকার আছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সফলতার জন্য লেগে থাকতে হয়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানীরা এগিয়ে যায়। তাদের উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে অনেক অধ্যবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টা থাকে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের প্রশ্ন করার সাহস থাকতে হবে।  বিজ্ঞান হচ্ছে উত্তর খোজার সঠিক পথ। আমাদের দেশেও সত্যেন বোস এর মতো বড় বিজ্ঞানী ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং গবেষক ড. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং বিজ্ঞানী ও গবেষক মারজানা আক্তারকে বিজ্ঞান বিষয়ে অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক তরুণ উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষক ও বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স ভবনের ফ্লোরে মাধ্যমিক পর্যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ও বিশেষ পর্যায়ের খুদে ও তরুণ বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন।