ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপহার দিয়েছেন ফোলারিন বালোগান। সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দেখান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলেন এই ফরোয়ার্ড।
তবে বালোগানের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ গল্প। প্রথমেই বলা দরকার, তার ফুটবল-জীবনের পথ অন্য দিকেও মোড় নিতে পারত। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বালোগান মাত্র আট বছর বয়সে আর্সেনালের একাডেমিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। ফলে চাইলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলই হতে পারত তার গন্তব্য।
অন্যদিকে, বাবা-মায়ের দেশ নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও ছিল তার। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রকে, যেখানে তার জন্ম হয়েছিল। ২০২৩ সালে ফিফার অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে যোগ দেন তিনি।
ক্লাব ক্যারিয়ারেও সহজ পথ পাড়ি দিতে হয়নি বালোগানকে। আর্সেনালের সিনিয়র দলের হয়ে মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলার পর ২০২৩ সালে ক্লাবটি ছাড়েন তিনি। এরপর ফরাসি ক্লাব রেঁমসে ধারে খেলতে গিয়ে ২১ গোল করে আলোচনায় আসেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে মোনাকোয় যোগ দেন তিনি।
ফ্রান্সে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পর যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে জায়গা করে নেন বালোগান এবং দ্রুতই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই গুরুত্বেরই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা প্রথম মার্কিন খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান বালোগান। ১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খেলোয়াড়ের এমন কীর্তি আর দেখা যায়নি।
ম্যাচ শেষে সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ তার প্রশংসা করে বলেন, অবিশ্বাস্য! সে এখন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে।
প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বালোগানের জন্য আরও বিশেষ হয়ে ওঠে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কারণে।
তিনি জানান, লন্ডন থেকে আসা স্বজনদের গ্যালারিতে দেখতে পেয়েছিলেন এবং তাদের সামনে খেলতে পেরে ভীষণ আনন্দিত ছিলেন।
ম্যাচ শেষে উদযাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসতে হাসতে বালোগান বলেন, আজ রাতে শুধু নেটফ্লিক্স দেখব।

