ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

তিনদিন ধরে কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখায় ১২ জন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া তিনটি পরিবারের ১২ সদস্য তিন দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। প্রখর রোদ ও তীব্র গরমে শিশুসহ নারী-পুরুষেরা পাটক্ষেতের আইলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে তারা কোন দেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় পাবেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

পুশইনের ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তারা এখনো শূন্যরেখাতেই অবস্থান করছেন। মানবিক কারণে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, তারা বাংলাদেশি কিংবা ভারতীয়—যেই হোক না কেন, দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা উচিত।

শনিবার (১৩ জুন) দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার ১১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন রানীনগর ক্যাম্পের কমান্ডার সহকারী কমান্ড্যান্ট সুনীল কুমার যাদব। বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা।

বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানায়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ সময় চেয়ে তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে। ফলে বিএসএফের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিশু, নারী ও পুরুষসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ১৪৯ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধ এবং তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তারা ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন।

তবে ওই ১২ জন নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “শনিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।