আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই টানটান উত্তেজনা আর বড় রানের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আম্পায়ারিং বিতর্ক। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার ম্যাচে ফিল সল্টের নেওয়া একটি ক্যাচ এবং থার্ড আম্পায়ার রোহান পণ্ডিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ম্যাচের ১৪তম ওভারে তখন চালকের আসনে ছিল হায়দ্রাবাদ। রোমারিও শেফার্ডের একটি শর্ট ডেলিভারিতে পুল শট খেলেন দারুণ ছন্দে থাকা হেইনরিখ ক্লাসেন। ডিপ মিড-উইকেটে বাউন্ডারি লাইনের খুব কাছে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন ফিল সল্ট।
খালি চোখে ক্যাচটি অসাধারণ মনে হলেও, সল্টের পা বাউন্ডারি কুশন বা দড়িতে লেগেছিল কিনা, তা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ দেখা দেয়। মাঠের আম্পায়াররা বিষয়টি নিশ্চিত হতে থার্ড আম্পায়ার রোহান পণ্ডিতের শরণাপন্ন হন।
রিপ্লে চলাকালীন থার্ড আম্পায়ারকে বলতে শোনা যায়, আমি কুশনের কোনো নড়াচড়া দেখছি না। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব দেখিয়ে তিনি ক্লাসেনকে আউট ঘোষণা করেন। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পর।
ব্রডকাস্টাররা যখন একটি নতুন 'টপ-অ্যাঙ্গেল' বা ওপর থেকে নেওয়া রিপ্লে দেখান, তখন দেখা যায় ক্যাচ ধরার সময় বাউন্ডারি কুশনটি সামান্য নড়ে উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাচ ধরার সময় বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করলে সেটি আউটের বদলে ছক্কা হওয়ার কথা।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কুশন নড়ে ওঠা সত্ত্বেও কীভাবে আম্পায়ার নিশ্চিত হলেন যে এটি আউট ছিল?
অন্যদিকে, ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে থার্ড আম্পায়ারের আরও সময় নিয়ে সব কটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল পরীক্ষা করা উচিত ছিল।
ম্যাচের ভাগ্যেও এই আউটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। ক্লাসেন যখন ৩১ রানে সাজঘরে ফেরেন, তখন হায়দ্রাবাদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১২৬। তিনি টিকে থাকলে সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত।
শেষ পর্যন্ত ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৬ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় আরসিবি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন