× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

রুটি বিক্রেতা থেকে যেভাবে হলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

মোহাম্মদ সিরাজ। ছবি : সংগৃহীত

মোহাম্মদ সিরাজ। ছবি : সংগৃহীত

মোহাম্মদ সিরাজ, লাল বল হোক বা সাদা—সব ফরম্যাটেই তিনি এখন ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রাণভোমরা। ক্লান্তিহীনভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বল করে যাওয়া কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হার না মানা মানসিকতা সিরাজকে চিনিয়েছে আলাদা করে। 

হায়দরাবাদের অলিগলি থেকে উঠে আসা এই পেসারের সাফল্যের পেছনে যেমন রয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি, তেমনি রয়েছে এক বুক চাপা দীর্ঘশ্বাস আর অদম্য জেদ।

সিরাজের ক্রিকেটার হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় অভাবের তাড়নায় রুমালি রুটি তৈরির কাজ করতে হতো তাকে। জ্বলন্ত চুল্লির আচে রুটি সেঁকতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই হাত পুড়ে যেত কিশোর সিরাজের। 

সারাদিনের পরিশ্রম শেষে যা আয় হতো, তার সিংহভাগ তুলে দিতেন পরিবারের হাতে। বাবা মোহাম্মদ ঘাউস ছিলেন অটোরিকশা চালক, থাকতেন ভাড়া বাড়িতে। শত অভাবের মধ্যেও বাবা সবসময় বলতেন, বেটা, তোকে একদিন ভারতের হয়ে খেলতে হবে, অনেক নাম করতে হবে। সেই স্বপ্নকেই ধ্রুবতারা বানিয়ে এগিয়েছেন সিরাজ।

২০১৭ সালে রাজকোটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু সিরাজের। এরপর ২০১৯ সালে ওয়ানডে ও ২০২০ সালে টেস্টেও নিজের জায়গা পাকা করেন। 

তবে ২০২০-২১ সালের অস্ট্রেলিয়া সফর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা। সিরিজের মাঝপথে যখন বাবা প্রয়াত হন, সিরাজ তখন বিদেশের মাটিতে জাতীয় দলের সঙ্গে। শোকাতুর হয়েও দেশের স্বার্থে তিনি ফিরে আসেননি। 

বাবার কবরে শেষ দেখা করতে না পারার সেই দুঃখ আজও তাকে তাড়া করে ফেরে। তাই তো প্রতিটি সিরিজ শুরুর আগে বাবার কবরে গিয়ে প্রার্থনা করা তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বর্তমানে তিনি আইপিএলের অন্যতম দামি বোলার। চলতি বছর গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ১০ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে প্রথম ওভারে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ায় তার জুড়ি নেই। 

সম্প্রতি পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলেছেন তিনি। এই নিয়ে আইপিএলে মোট তিনবার প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নেওয়ার বিরল নজির গড়েছেন সিরাজ, যা কোনো ভারতীয় বোলারের জন্য প্রথম।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজ এখন প্রায় ৫৭ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক। বিসিসিআইর বার্ষিক ‘বি’ গ্রেড চুক্তিতে তার বেতন ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতি টেস্টে ১৫ লাখ, ওয়ানডেতে ৬ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩ লাখ রুপি ম্যাচ ফি পান তিনি। 

আইপিএল সূত্রে জানা যায়, আইপিএলে গুজরাট টাইটান্স থেকে পাচ্ছেন ১২.২৫ কোটি রুপি। 

জানা যায়, হায়দরাবাদের অভিজাত এলাকা জুবিলি হিলসে তার ১৩ কোটি রুপির বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে। যেখানে একসময় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন, এখন সেখানে তার প্রতিবেশী শহরের বড় বড় তারকা ও শিল্পপতিরা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর শৈল্পিক কাঠের আসবাবে সাজানো এই বাংলোর ব্যালকনি দিয়ে দেখা যায় পুরো শহরের দৃশ্য।

সিরাজের আজকের এই শৃঙ্খলিত জীবনের পেছনে বড় কৃতিত্ব বিরাট কোহলির। একসময় বিরিয়ানি অন্তপ্রাণ এই পেসার এখন কঠোর ডায়েট মেনে চলেন। কোহলির অনুপ্রেরণায় নিজের ফিটনেস ও মানসিকতায় এনেছেন আমূল পরিবর্তন । 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!