মেসি-এমবাপ্পের ম্যাজিকাল রাত ভাগ বসালেন আর্লিং হালান্ড। দুই কিংবদন্তির মতোই ম্যাচে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনিও। তার জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।
গ্রুপ ‘আই’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী ছিল নরওয়ে। প্রথম ম্যাচে তারা ইরাককে ৪–১ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে ফ্রান্সের কাছে ৩–১ গোলে হেরে চাপে ছিল সেনেগাল। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় নরওয়ে, যদিও শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াই করেছে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। তবে সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির দৃঢ়তায় প্রথমদিকে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৩৫ মিনিটে হালান্ডের শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মেন্দি। তখন মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হবে।
কিন্তু ৪৩ মিনিটে ঘটে বড় এক ভুল। নিজেদের রক্ষণভাগের সামনে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ভুল পাস দেন সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালি। সেই সুযোগ লুফে নেন বদলি খেলোয়াড় মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। মেন্দি বল ছুঁয়েও গোল ঠেকাতে পারেননি।
এক গোলের সুবিধা নিয়ে বিরতিতে যায় নরওয়ে। বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৫০ মিনিটে আসে নরওয়ের দ্বিতীয় গোল। সেনেগাল যখন আক্রমণে ব্যস্ত, তখন একটি ঢিলেঢালা পাস কেটে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মার্টিন ওডেগার্ড। মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের সুবিধা তৈরি করে নরওয়ে। বাম দিকে থাকা হালান্ডের কাছে বল বাড়িয়ে দেন ওডেগার্ড। কুলিবালি স্লাইড করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড।
তবে হাল ছাড়েনি সেনেগাল। তিন মিনিট পরই ব্যবধান কমান ইসমাইলা সার। আক্রমণে উঠে এসে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর আশা জাগান তিনি।
কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৫৮ মিনিটে আবারও আঘাত হানেন হালান্ড। আরেকটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন নরওয়ের এই তারকা। তার গোলেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৩–১।
এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচ যখন নরওয়ের নিয়ন্ত্রণেই, তখন শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন ইসমাইলা সার। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩–২ করেন তিনি। শেষ কয়েক মিনিটে সেনেগাল সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও নরওয়ের রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে তারা নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট। অন্যদিকে দুই ম্যাচে দ্বিতীয় হার দেখে কঠিন সমীকরণের সামনে পড়ে গেল সেনেগাল।
বিশ্বকাপের এই গোলমুখর রাতে মেসি ও এমবাপ্পের পর আলো ছড়ালেন হালান্ডও। জোড়া গোল করে দলের জয় ও নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনি কতটা ভয়ংকর।


