জামালপুর-কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় আটটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে এক রাতে ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থান এবং নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জামালপুর ব্যাটালিয়ন ৩৫ বিজিবি। গত সোমবার গভীর রাতে জামালপুর ব্যাটালিয়নের (৩৫ বিজিবি) আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় ঘটনাগুলো ঘটে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে দাঁতভাঙা বিওপির ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায়, মোল্লারচর সীমান্ত পিলার ১০৬২-এর পাশে কুচুনিমারা এলাকায়, ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে মানকারচর এলাকায়, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা এলাকায়, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে লুকায়েরচর এলাকায়, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে বালুরঘাট এলাকায়, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে দরগাপাড়া এলাকায় এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে বিলডুবা এলাকায় শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
এতে আরও জানানো হয়, রাতে এসব পয়েন্টে ভারত লাইট অফ করে দিলে সন্দেহ হয়। পরে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিলে এবং সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা ও টহল জোরদারে বিএসএফের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। রাতের বেলায় এই চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে তারা ব্যর্থ হয়। আমাদের স্থানীয় বাসিন্দারা সজাগ রয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন