রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকল্প উল্লেখ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমাদের তরুণদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, সে জাতি অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তত এগিয়ে। তাই বিজ্ঞানচর্চা কেবল একটি একাডেমিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
গতকাল রোববার মন্ত্রী ঢাকায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ‘ফিউচার জেনারেশনের প্রজেক্ট’। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্লান্টে বিজ্ঞানী হয়ে আমাদের ছেলেরা প্লান্টে জয়েন করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশে^র ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। স্বপ্ন দেখতে হবে, লক্ষ্য স্থির করতে হবে। ধৈর্য হারা হবে না, লেগে থাকবা, কখনো লক্ষ্য হতে সরে যেও না। তোমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ভালো করলে আত্মীয়স্বজন সবাই গর্ব করবে। বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য আমাদের সরকার ১০ লাখ টাকা করে দিচ্ছে। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যাবে তাদের পাশে আমাদের সরকার আছে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক, উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনযাত্রাকে করেছে সহজতর, সমৃদ্ধ ও উন্নত। বর্তমান বিশে^ যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, সে জাতি অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তত এগিয়ে যায়। তাই বিজ্ঞানচর্চা কেবল একটি একাডেমিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আমাদের লক্ষ্য একটি উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা-সক্ষম প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সফলতার জন্য লেগে থাকতে হয়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানীরা এগিয়ে যায়। তাদের উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে অনেক অধ্যবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টা থাকে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের প্রশ্ন করার সাহস থাকতে হবে। বিজ্ঞান হচ্ছে উত্তর খোঁজার সঠিক পথ। আমাদের দেশেও সত্যেন বোসের মতো বড় বিজ্ঞানী ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং গবেষক ড. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং বিজ্ঞানী ও গবেষক মারজানা আক্তারকে বিজ্ঞান বিষয়ে অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’Ñ এ প্রতিপাদ সামনে রেখে সারা দেশে ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগীদের নিয়ে ঢাকায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ১৪-১৬ জুন ২০২৬ তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন