কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মাইথারকান্দি খাল দখল ও দূষণের কারণে এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বিঘা কৃষিজমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালাডুমুর নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি গৌরীপুর, বারপাড়া, সুন্দলপুর, গোয়ালমারী ও পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে খিরাই নদীতে মিলিত হয়েছে। খালটি একসময় প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের কৃষকদের সেচের প্রধান উৎস ছিল। বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ দখল ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে শুকনো মৌসুমে সেচের পানি না পেয়ে কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষক শাহআলম বলেন, খালে জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ফসল আবাদ করা যাচ্ছে না। দখল ও দূষণের কারণে খালটি কার্যত মৃত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কৃষি ও পরিবেশ সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, মাইথারকান্দি খালটি একসময় এলাকার কৃষির প্রাণ ছিল। বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে হাজার হাজার কৃষক সেচ সমস্যায় পড়েছেন।
আমিরাবাদ গ্রামের কৃষক আলামিন অভিযোগ করেন, খালের বিভিন্ন অংশ প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটি মরা খালে পরিণত হয়েছে।
সুন্দলপুর গ্রামের এক শিক্ষক জানান, খালের পাশে তার কৃষিজমি থাকলেও পানি না থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। খালটি পুনরুদ্ধার না হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে, নইলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন স্থায়ীভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন