ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাদিয়া আফরিন সামি (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসানসহ তার পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছেন।
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া আফরিন সামি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোরর চর ইউনিয়নের বাড়তিপাড়া এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী। তাদের সংসারে আড়াই বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহত সাদিয়ার দুলাভাই সাগর জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে মেহেদী হাসানের ভাই তাকে ফোন করে জানান যে, সাদিয়া স্ট্রোক করেছেন এবং তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তারা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। সাদিয়ার স্বামী মেহেদী বা তার পরিবারের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। মরদেহ ফেলে রেখে তারা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। গতকাল রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাদিয়ার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে মেহেদীর সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেহেদী সাদিয়ার কাছে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই কলহ হতো। পরিবারের সদস্যদের দাবি, টাকার জন্য সাদিয়াকে হত্যা করে স্বামী ও তার স্বজনরা ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে ওই নারী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন