× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ এএম

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমে ২ শতাংশ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ এএম

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি  খাতে বরাদ্দ কমে ২ শতাংশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ¦ালানির জন্য রাখা হয়েছে। মোট বরাদ্দের ৯৮ শতাংশই জীবাশ্ম জ¦ালানির দখলে রাখা হয়েছে, যা জীবাশ্ম জ¦ালানিকেন্দ্রিক জ¦ালানির ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

জাতীয় বাজেট পর্যালোচনায় গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, সরকারের প্রশাসনযন্ত্র এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে যে এখনো জীবাশ্ম জ¦ালানিকেন্দ্রিক একধরনের মনমানসিকতা রয়েছে, সেটির ইঙ্গিত এই রাজস্বকাঠামো থেকে বেশ কিছুটা হলেও পাওয়া যায়।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে বুধবার ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট : বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত কী পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গবেষণা সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী। মিডিয়া ব্রিফিং করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের জেনারেল সেক্রেটারি মনোয়ার মোস্তফা, ইডকলের চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ জাবেদ ইমরানসহ অনেকে।

প্রবন্ধে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে জাতীয় বাজেটে এই খাতের অংশ কমে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ কমে হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, আগের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ, যা মূলত গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে হয়েছে।

প্রবন্ধে সিপিডি বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহারের (কর অবকাশ) প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোক্তারা তাদের সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রিবেট পাবেন। পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম বা স্টিলের কাঠামো এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক কন্ডাক্টরের ওপর বর্তমানে ৬২ শতাংশ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ করভার রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই করভার কমিয়ে ২৬ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে বর্তমান করভার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য যন্ত্রাংশ যেমনÑ সোলার ইনভার্টারের করভার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ, সোলার প্যানেলের করভার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ২ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জিং স্টেশনে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও নিবন্ধন ফি কমানো হয়েছে। এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি।

প্রবন্ধে বলা হয়, অন্যদিকে বাজেটে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রয়েছে, যা একে সবচেয়ে কম করযুক্ত জ¦ালানি হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্কসুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কয়লা অনুসন্ধানে জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ সালে ৬ লাখ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, যখন বলা হচ্ছে উচ্চমূল্যে এলএনজি আনা হবে না, তখন এলএনজিকে কেন উত্তরোত্তর প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে? নতুন করে কয়লা অনুসন্ধানের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং কয়লা আমদানিকারক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শুল্কসুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে জ¦ালানি রূপান্তরের পরিপন্থি বলে মনে করে সংস্থাটি।

সিপিডি আরও বলছে, বিশাল বাজেটের তুলনায় সামান্য বরাদ্দ দিয়ে সরকারের ২০৩০ সালের জ¦ালানি রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাইরের দিক থেকে একরকমের প্রণোদনা দিচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এখনো পছন্দ জীবাশ্ম জ¦ালানি।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি রাজস্ববৈষম্য উতরাতে পারেনি। কিছু কিছু জায়গায় তারা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছেন। কিন্তু রাজস্ববৈষম্য এখনো অব্যাহত রয়েছে। জীবাশ্ম জ¦ালানিকে সুবিধা দেওয়া, এলএনজিকে সুবিধা দেওয়া, কয়লাকে সুবিধা দেওয়া, তেলকে সুবিধা দেওয়াÑ এই জায়গাগুলো কমানোর জন্য তারা অনুরোধ করছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!