বিদেশে অবস্থানরত (অবৈধ কাগজপত্রধারী) বাংলাদেশি অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ বাড়াতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব আইন ও নীতির ওপর নির্ভরশীল।
গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার (মাদারীপুর-৩) টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসবাসরত আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা জাতীয় উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখছেন। তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব দেশে বাংলাদেশি নাগরিকেরা যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া কাজ করছেন, সেসব দেশের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সেসব দেশের আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় যোগ্য ও কর্মরত বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সম্প্রসারণে আমরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলো নিয়মিতভাবে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে এবং স্বাগতিক দেশগুলোর ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ও বৈধকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, কোনো দেশ যখন অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য অ্যামনেস্টি বা বৈধকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখন আমাদের দূতাবাসগুলো সেখানে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
ইউরোপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্পেন সরকারের প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি উপকৃত হতে পারেন। তিনি বলেন, এর ফলে আনুমানিক ২০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। এ সময় মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধকরণ সম্পূর্ণভাবে স্বাগতিক দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।
সরকারের সামগ্রিক অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপদ, বৈধ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রায়ই মানব পাচার, শ্রম শোষণ, আইনি জটিলতা ও অন্যান্য ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ কারণে সরকার নিরাপদ, বৈধ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখা এবং নতুন বাজার উন্মুক্ত করার জন্য কাজ চলছে। সংসদে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মাল্টা, মরিশাস, স্পেন, সার্বিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, ফিজি, আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে গায়ানার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতার সনদায়ন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে নার্সিং প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি তাদের টিএএফই ও টিভিইটি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ৬০ লাখ ডলারের একটি প্রকল্প চালু করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন