কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ী বাজার থেকে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে খোঁচাবাড়ীগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একটি কালভার্ট ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ কালভার্ট দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। সড়কটি এলাকার জীবন-জীবিকার প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এর বেহালদশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের অদূরে কালভার্টটি ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা গর্তের মুখে কঞ্চিসহ বাঁশের আগা দিয়ে সতর্কসংকেত ঝুলিয়ে রেখেছেন। গর্তের কারণে সড়কটি অত্যন্ত সরু হয়ে যাওয়ায় বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে কেবল অটোরিকশা চলাচল করলেও প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খড়িবাড়ী-খোঁচাবাড়ী সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাট-বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু কালভার্ট ধসে পড়ায় রাতের অন্ধকারে এবং বৃষ্টির সময় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলী বলেন, দুই বছর আগে সড়ক মেরামত করার সময় আমরা কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি। এখন সেটি ভেঙে গিয়ে আমাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
কৃষকদের মতে, পুরাতন কালভার্টটি সংস্কারের পাশাপাশি এখানে একটি বড় বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা সময়ের দাবি। এতে যেমন পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, তেমনি জলাবদ্ধতা দূর হয়ে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষা পাবে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গামোড়ের কালভার্ট ধসে সৃষ্ট জনভোগান্তির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। নতুন করে কালভার্ট নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন