এক সময় বিশে^র অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। এখনো আমদানির তালিকায় দেশটির অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তবে একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রেও দ্রুত উত্থান ঘটিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে দেশটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি রুপি। মাত্র ১২ বছরে তা বেড়েছে ৫৫ গুণেরও বেশি। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে ভারত এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থান ১৯তম। রপ্তানির এই সাফল্যের পেছনে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান ছিল ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি, আর বেসরকারি খাতের অবদান ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি। শুধু রপ্তানিই নয়, উৎপাদনেও নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারত। গত অর্থবছরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিমাণ ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে।
সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগে ভারত মূলত সুরক্ষাবর্ম ও ছোট যন্ত্রাংশ রপ্তানি করলেও এখন তালিকায় যুক্ত হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, হালকা সামরিক হেলিকপ্টার, কামান, রকেট নিক্ষেপক, যুদ্ধজাহাজ, নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার ও বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য কেবল রপ্তানি আয়ের নয়; এটি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নিজস্ব নকশা, গবেষণা, প্রকৌশল দক্ষতা এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের ‘দেশে তৈরি’ ও ‘আত্মনির্ভরতা’ভিত্তিক নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়নই ভারতের এই উত্থানের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন