× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

মুক্তিপণ চেয়ে প্রতিবেশীর চিঠি

এক দিন পর ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

এক দিন পর ময়লার  ভাগাড়ে মিলল শিশুর  বস্তাবন্দি লাশ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ ময়লার ভাগাড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম মো. জায়হান (৫)। সে ওই এলাকার মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। এরপর চিরকুট দিয়ে এক প্রতিবেশী ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় স্বজনেরা থানায় ডায়েরি করার পর মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ জায়হানদের প্রতিবেশী সাইফুদ্দিন, তার স্ত্রী শানু আক্তার ও মেয়ে সাদিয়া সুলতানাকে (১৯) আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে জায়হানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তারা। এরপর তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় জায়হানের লাশ।

এদিকে জায়হানকে যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বজনদের সঙ্গে খুঁজতে বের হন প্রতিবেশী মো. সাইফুদ্দিনও। বাড়ির পাশের পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিতে অংশও নেন তিনি। একপর্যায়ে জায়হানের বাবা মো. শাহজাহানের সঙ্গে বসে চা-ও পান করেন। পরিবারের কেউই তখন সন্দেহ করেনি সাইফুদ্দিন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়ান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের ধারণা ছিল, শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

এদিকে ঘটনার দিন বিকেলে শাহজাহানের ঘরের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে বলা হয়, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শোন... আধা ঘণ্টার ভে রে ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল ফোন আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিবি...।’

চিঠিতে আরও লেখা ছিলÑ ‘পুলিশের কাছে গেলে ভালো হবে না। পুলিশের কাছে গেলে জায়ানের লাশ পাবি।’

ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

জায়ানের স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভেই প্রতিবেশীরা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করেছিল। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, জায়ানের লাশ উদ্ধারের পর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।

এদিকে, চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, সাইফুদ্দিনের মেয়ে সাদিয়া সুলতানার হাতের লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার মিল ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!