যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হয়েছে। আর তাতে বিশ^বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার বড় সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম নেমে এসেছে ৮০ ডলারের নিচে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ^বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৩ সেন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৯.৪২ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৬.৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া বাজারে বেশি বেচাকেনা হওয়া আগস্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির তেলের দাম ৩০ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৭৫.৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার শন্তি চুক্তির খবরে দুই ধরনের তেলের দামই গত মার্চের পর সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে যায়।
দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক ওই চুক্তিতে সই করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনটি সৌদি ট্যাংকারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়। এসব ট্যাংকারে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে চলে আসবে।
চুক্তি অনুযায়ী ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়বে।
বাজার গবেষণা সংস্থা কেসিএম-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বাজারে তেলের দাম পরবর্তী দফায় আরও কমানোর আগে ব্যবসায়ীরা দেখতে চান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল আসলেই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না। তারা এখন সেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অপেক্ষায় আছেন।’
যুদ্ধের আগে বিশে^র মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সরবরাহ হতো।
শান্তি চুক্তি স্থায়ী হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ^বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পশ্চিম এশিয়ার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও তাদের রপ্তানি পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে জারি করা অনিবার্য পরিস্থিতির বিশেষ নোটিশ তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকের জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তাদের তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সরবরাহ শিগগিরই আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও এখনো কিছু ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়ে গেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সংঘাত অব্যাহত থাকায় মার্কিন-ইরান চুক্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভান্দা ইনসাইটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারছে না।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন