বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডকে দুর্দান্ত জয় উপহার দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি। শেষ ২০ মিনিটের ঝড়ে বসনিয়া হার্জেগোভিনাকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে মুরাত ইয়াকিনের দল।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা না পেলেও শেষ দিকে রীতিমতো গোলবন্যা বইয়ে দেয় সুইসরা। ম্যাচের ৭২ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র ২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পরই প্রথম গোল করেন মানজাম্বি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত ভলিতে জালে পাঠান তিনি। এটি ছিল ম্যাচে তার মাত্র চতুর্থ বল স্পর্শ। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ২০ বছর ২৪৭ দিন বয়সে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়ে রেকর্ড বুকে ঢুকে পড়েছেন মানজাম্বি। এর আগে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে ভক্ত-সমর্থকদের হতাশ করছিল সুইজারল্যান্ড। তবে ৭৪ মিনিটে মানজাম্বির গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
গোল হজমের কিছুক্ষণ পরই বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে এককভাবে গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তারিক মুহারেমোভিচ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বসনিয়া। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রুবিন ভার্গাস। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার নিখুঁত কার্লিং শট জড়িয়ে যায় জালের নিচের কোণে।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোলদাতা থেকে অ্যাসিস্টদাতায় রূপ নেন ভার্গাস। তার বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন মানজাম্বি। এরপর যোগ করা সময়ে জিব্রিল সাওকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পট-কিক থেকে গোল করে দলের জয় আরও বড় করেন অধিনায়ক গ্রানিত জাখা।
ম্যাচের শেষ দিকে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত এক ভলিতে সান্ত¡নার গোল শোধ করেন বসনিয়ার এরমিন মাহমিচ। তবে তাতে ব্যবধানই শুধু কমেছে, হার এড়ানো যায়নি।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মানজাম্বি বলেন, ‘এটাই সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত। আমরা জানতাম শুরুটা ভালো হয়নি, তাই ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা একটি ভালো দল এবং আজ সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’ এদিন মানজাম্বির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জোহান অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ফুটবলার। রাস্তায় ফুটবল খেলে বড় হয়েছে সে। তাকে আমরা মাঠে অনেক স্বাধীনতা দিই। সে ড্রিবল করতে পারে, চাপ তৈরি করতে পারে, গোল করতে পারে। আজকের ম্যাচে তার অবদান ছিল অসামান্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে শুধু প্রতিপক্ষকেই নয়, আমাদেরও চমকে দেয়। মাঝমাঠ কিংবা দুই প্রান্তÑ যেকোনো জায়গা থেকে সে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে।’
দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’র শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে অবস্থান করছে বসনিয়া হার্জেগোভিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী ২৪ জুন ভ্যাংকুভারে স্বাগতিক কানাডার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। একই সময়ে সিয়াটলে কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বসনিয়া। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এ দুটি ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন