আমাদের অনেকেরই মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে আবার ঠিকও হয়ে যায়। খাবার, পানি খাওয়া, স্ট্রেস, ভ্রমণ বা দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের কারণে এটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। তাই বেশির ভাগ মানুষ এটিকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। কিন্তু সমস্যা তখনই গুরুতর হয়ে ওঠে, যখন কোষ্ঠকাঠিন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ স্থায়ী হয়, অস্বস্তি বাড়ায় এবং জীবনযাপনের পরিবর্তন করেও উন্নতি হয় না। চিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় এটি শুধু সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য না-ও হতে পারে; বরং কোলনের কার্যক্ষমতার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এসটিসি কী : গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, এই অবস্থাকে বলা হয় স্লো ট্রানজিট কোষ্ঠকাঠিন্য বা এসটিসি। এটি এমন একটি সমস্যা, যেখানে বৃহদন্ত্র বা কোলন স্বাভাবিক গতিতে মল সামনে এগিয়ে নিতে পারে না। ফলে মল দীর্ঘ সময় অন্ত্রে থেকে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়। এই অবস্থায় শুধু বেশি ফাইবার খাওয়া বা পানি পান বাড়ালেও অনেক সময় সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয় না, কারণ মূল সমস্যা থাকে অন্ত্রের গতিশীলতায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপন এই সমস্যার বড় কারণ হতে পারে। যেমনÑ দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কম পানি পান করা, বেশি ক্যাফেইন বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ ও অনিয়মিত ঘুম। এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
যেভাবে সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে এসটিসি তৈরি হয় : বারবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্লো ট্রানজিট কনস্টিপেশন বা এসটিসি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এই ক্লিনিক্যাল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, অন্ত্র ঠিকভাবে সংকোচন ও প্রসারণ করতে পারে না। এতে মল কোলনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে এবং সমস্যা স্থায়ী হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা আরও সতর্ক করেন যে মলত্যাগের স্বাভাবিক ইচ্ছা বারবার চেপে রাখলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
যে লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ : বিশেষজ্ঞদের মতে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরিÑ ১. মলে রক্ত বা কালো রঙের মলÑ এটি হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন, কারণ এটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ২. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াÑ কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাওয়া অন্ত্রের গভীর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ৩. দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা থাকাÑ সব সময় পেট ভারী বা ফোলা লাগা অন্ত্রের গতির সমস্যা নির্দেশ করে। ৪. তীব্র পেট ব্যথা ও বমিÑ এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। ৫. পারিবারিক ইতিহাসÑ পরিবারে কোলন বা অন্ত্রের রোগ থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এটি ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনধারা পরিবর্তন ও চিকিৎসায় অনেক সময় উন্নতি হয়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। শরীরের দেওয়া সতর্কসংকেত সময়মতো বুঝতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন