গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও থামছে না ইসরাইলি হামলা। উত্তর গাজার আত-তুয়াম এলাকায় নতুন এক বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। স্থানীয় হাসপাতাল ও গাজা পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। গাজা পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, একটি পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তারা। নিকটবর্তী সড়কে থাকা এক বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহত অন্তত আটজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আলজাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে গাজায় পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় স্থানীয় পুলিশকাঠামো বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চলছে উপত্যকাজুড়ে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ৭২ হাজার ৭৭৫ ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিরতির পরেও প্রাণ হারিয়েছে শত শত মানুষ। এদিকে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজা সংঘাত চলাকালে ইসরাইলকে অস্ত্র দিয়েছে অন্তত ৫১টি দেশ।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গণহত্যার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করলেও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি। ইসরাইলি আমদানিসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে ২ হাজারের বেশি অস্ত্রের চালান প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, সামরিক যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে ইসরাইলে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহের কারণেই গাজায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারছে ইসরাইল।

