যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মেকারফিল্ড আসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
আলজাজিরা লিখেছে, এই জয়ের ফলে লেবার পার্টির নেতৃত্ব ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হলো তার।
গতকাল শুক্রবার ভোরে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে অনায়াসে পরাজিত করেছেন বার্নহ্যাম।
হাউস অব কমন্সের এই আসনটিতে জয়ের মাধ্যমে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নামার প্রধান শর্ত পূরণ হলো। নির্বাচনে তিনি ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়নকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।
নির্বাচনে ‘রেস্টোর ব্রিটেন’ দলের রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় হয়েছেন। এ ছাড়া কনজারভেটিভ পার্টি, গ্রিন পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রার্থীরা বেশ পিছিয়ে ছিলেন।
বিজয়ী ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ‘সবাই বুঝতে পারছেন যে বর্তমান রাজনীতি কাজ করছে না। সবাই অনুভব করতে পারছেন দেশ যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। আজকের রাতটি একটি পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। এখান থেকে আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে মেকারফিল্ড নামটি দেশের কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের সমার্থক হয়ে ওঠে।’
আলজাজিরা লিখেছে, বার্নহ্যামের এই বড় জয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব বদলের লড়াই শুরু হতে পারে, যেখানে স্টারমারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বার্নহ্যাম।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী নতুন করে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই কেবল ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা সম্ভব।
স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করলে বার্নহ্যামই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত ‘ইপসোস’-এর জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে স্টারমারের পক্ষে সমর্থন মাত্র ১২ শতাংশ।
বার্নহ্যাম যদি স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন, তা হলে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। গত মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমার সরকারের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তার নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন বা নীতিগত বিরোধে জড়িয়েছিলেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং এই মুহূর্তে নেতৃত্বে বদল দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন