ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ডসহ একাধিক দেশে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এক দিনেই জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড চারবার ভেঙেছে। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্যান্টন ডাউনহ্যামে তাপমাত্রা পৌঁছায় সাঁইত্রিশ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াটিশ্যাম ও একই এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে ধারাবাহিকভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে গড়া জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ডও এবার ভেঙে গেছে। অন্যদিকে জার্মানিতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে একচল্লিশ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে রেললাইন বেঁকে যাওয়া, সড়কের পিচ নরম হয়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্স ও ইতালিতেও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। হাসপাতালগুলোতে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অসুস্থতা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কয়েকটি দেশে বিদ্যালয়, পর্যটনকেন্দ্র ও উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বনাঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, ইউরোপ বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। গত কয়েক দশকে মহাদেশটির গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে চরম তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ বায়ু একটি অঞ্চলের ওপর আটকে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে কোথাও কোথাও বজ্রবৃষ্টি হলেও সামগ্রিকভাবে তাপপ্রবাহের প্রভাব দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। তাই বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

