ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

শিশুর বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা ‘স্ক্রিন টাইম’ : গবেষণা

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের নিয়মিত পর্দার সামনে রাখা তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পর্দার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবনের একেবারে শুরুর সময়ে মুঠোফোন, ট্যাবলেট, দূরদর্শন কিংবা কম্পিউটারের মতো ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অভিভাবকের সঙ্গে মানসিক বন্ধন গড়ে ওঠা, সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এতে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহারের ফলে শিশুদের স্নায়বিক উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্রিয়তা এবং ওজনের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা মা-বাবার সান্নিধ্যের পরিবর্তে মানসিক প্রশান্তির জন্য ডিজিটাল যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক রেফ ক্লেটন বলেন, অনেক অভিভাবক নিজেরাই পর্দা ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনা না জানায় অজান্তেই শিশুদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলছেন। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। যুক্তরাজ্যের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্দা ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট বিকাশজনিত সমস্যার মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হলেও সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

গবেষকদের মতে, সামাজিক বাস্তবতায় শিশুদের মাঝে মাঝে পর্দার সামনে আসা পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়মিত পর্দা দেখার সুযোগ করে দেওয়া উচিত নয়। গবেষণা দল শিশুদের পর্দা ব্যবহারের ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি জাতীয় ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে যেসব শিশু বিকাশগত সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের উচিত পর্দার পরিবর্তে খেলাধুলা, গল্প বলা, কথা বলা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়া।