উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় মানববিহীন যুদ্ধযানের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনা, নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর মোট পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ষাট হাজার মানববিহীন যুদ্ধযান বাহিনীতে যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরই প্রায় এগারো হাজার যুদ্ধযান চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সেনার হাতে নিয়মিত যুদ্ধসরঞ্জাম হিসেবে এসব যুদ্ধযান তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেছেন, মানববিহীন যুদ্ধযান আর সীমিত কয়েকটি ইউনিটের অস্ত্র নয়, বরং প্রতিটি সেনার জন্য এটি দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এসব যুদ্ধযান যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব যুদ্ধযান তৈরিতে সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে, যাতে শত্রুপক্ষের মানববিহীন যুদ্ধযান সহজেই ধ্বংস করা যায়। এ ছাড়া সেনাবাহিনী শিগগিরই বিশ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য মানববিহীন যুদ্ধযান সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সমন্বিত যুদ্ধযান ব্যবস্থাও বাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

