গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে আহত ও গুরুতর অসুস্থ বহু ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত এসব সাংবাদিক এখন গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের উন্নত চিকিৎসা গাজার বাইরে ছাড়া সম্ভব নয়। আহত ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ আল-কাহউজি জানান, এক বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিয়ে আবার সংবাদ সংগ্রহে ফিরতে চান। একইভাবে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ফটোসাংবাদিক মোয়াজ আল-সালহিও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সংগঠনের দাবি, বর্তমানে চল্লিশের বেশি সাংবাদিক গুরুতর আঘাত বা জটিল রোগে ভুগছেন এবং তাদের দ্রুত গাজার বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে জরুরিভিত্তিতে প্রায় ১৮ হাজার পাঁচশ রোগীকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন হলেও সীমিত চলাচল ও অবরোধের কারণে অধিকাংশই আটকে আছেন।
এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রামাল্লা ও নাবলুসের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পশ্চিম তীরের নাবলুস এলাকায় এক গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিলম্বের কারণে ছয় মাসের গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আমিরাত।

