ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চালক-হেলপারসহ গ্রেপ্তার ৩

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:২১ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাসচালক-হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। এর আগে শনিবার রাতে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সাভার পরিবহনের ওই বাসটি থামিয়ে নারীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেনÑ বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), চালকের সহকারী মুসফেকুর রহমান জনি (২০) ও চালকের বন্ধু মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী ও তার এক আত্মীয়। নবীনগরে পৌঁছানোর আগেই বাসের অন্য যাত্রীরা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। একপর্যায়ে বাসচালক ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা আত্মীয়কে মারধর করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। পরে ইমরান হেলপার মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দিয়ে বাস থেকে নেমে যায়। এরপর জনি বাসটি দ্রুতগতিতে গাজীপুরের চন্দ্রার দিকে চালিয়ে নিতে থাকেন। তখন সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

অন্যদিকে বাস থেকে নামার পর ওই নারীর আত্মীয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সাভার পরিবহনের ওই বাসটি আটক করে। পরে বাস থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাসের হেলপার মুসফেকুর ও চালকের বন্ধু সুমনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে রাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।