ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

রাশিয়ার অগ্রগতি, পাল্টা হামলায় বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৩০ এএম

রাশিয়া এক সপ্তাহে ইউক্রেনের নতুন ১০টি এলাকা দখলের দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন দখল হওয়া এলাকাগুলো দোনেৎস্ক, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ ও জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশে অবস্থিত। একই সময়ে ইউক্রেনের ২২টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ধ্বংস করারও দাবি করেছে মস্কো। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউক্রেন। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেনের মোট ভূখ-ের আনুমানিক ২০ শতাংশ। ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী মূলত পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রিমিয়া, লুহানস্কের পুরো অংশ এবং দোনেৎস্কের অধিকাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনেরও উল্লেখযোগ্য অংশ রুশ বাহিনীর দখলে থাকলেও পুরো প্রদেশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রাজধানী কিয়েভসহ পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেন এখনো ইউক্রেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বর্তমান সামরিক লক্ষ্য পুরো ইউক্রেন দখল নয়; বরং দোনবাস অঞ্চল এবং ইতোমধ্যে দখলে থাকা এলাকাগুলোর ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন উড়োজাহাজের হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে রুশ বাহিনী। এদিকে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভ, চেরনিহিভ, খারকিভ, জাপোরিজ্জিয়া ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। চেরনিহিভে একটি বিপণিতে হামলায় ৯ বছর বয়সি এক শিশুসহ দুজনের মৃত্যু এবং ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রিত হরলিভকা শহরে ইউক্রেনীয় হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে এক হাজার ৩৯৬ জন এবং রাশিয়ায় ২৫০ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উভয়পক্ষই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও সংঘাতের বিস্তার এবং প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।