আওয়ামী লীগকে সরাতে ১৬ বছর লেগেছে, আপনাদের সরাতে ১৬ দিনও লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আপনাদের পাশে এখন কেউ নেই, আপনারা ভালো করেই জানেন। জনগণ আন্দোলন করে ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়েছে, আপনাদের সরাতে ১৬ দিনও লাগবে না। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে। যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়। ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন এটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।
তিনি বলেন, মানুষ বিচারকের কাছে গিয়ে বিচার পায়, সম্মান পায়; কিন্তু আমি সেখানে অসম্মানিত হয়েছি, অবিচারের শিকার হয়েছি। আমরা সংসদে লড়াই করব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলব। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা জুলাই শহিদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি, আর একটি দল ফ্যাসিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন ব্যক্তিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাচ্ছে।
গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ৭০ শতাংশ জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণ করে প্রমাণ করছে জনগণের আস্থার জায়গায় তারা যেতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দুই মাসে লক্ষ্য করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং নব্য ফ্যাসিবাদকে স্থানান্তর করছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের পরে এই বাংলাদেশ অতীতে কখনো কল্পনা করা যায়নি। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই হয়েছিল, সেটি নিছক ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনের জন্য ছিল না; বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্যই জুলাই হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে বিচারকরা এক্সিকিউটিভের কাছে মাথা নত করবে না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে এবং আইনজীবীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য না হলে সমাজের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তিনি বলেন, আমরা রিট করেছি; তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা এই সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এক্সিকিউটিভের লোক এসে যদি বিচারককে বদলে দেন, আইন মন্ত্রণালয়ের করায়ত্ত থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত না করা যায়, তবে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা যাবে না। এই দেশে যদি জবাবদিহি তৈরি করতে হয়, তাহলে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; তবেই বাংলাদেশ একটি নতুন সূচনা দেখতে পারবে। শিশির মনির বলেন, জুডিশিয়ারিকে রক্ষা করতে না পারলে টু-থার্ড মেজরিটির জোরে সংবিধানকে তছনছ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

