এসএসসি পরীক্ষার শুরুর দিনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। বিশেষ করে পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে যানবাহন ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত ভিড়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে। এতে করে অনেক পরীক্ষার্থীকে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রসংলগ্ন সড়কে অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণে রাস্তার বড় অংশ দখল হয়ে যায়। এতে শুধু ওই কেন্দ্র নয়, আশপাশের একাধিক কেন্দ্রগামী পরীক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন।
সকালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের আশপাশের সড়কে দুই পাশে অভিভাবকদের জটলা তৈরি হয়েছে। অনেকেই কেন্দ্রের গেটের সামনে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এতে শুধু এই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের অন্যান্য কেন্দ্রগামী শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বারবার যানবাহন না দাঁড় করাতে এবং অভিভাবকদের দ্রুত সড়ক ত্যাগের অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা মানা হয়নি। ফলে যানজট দীর্ঘায়িত হয়ে সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।
রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে সকাল থেকেই সড়কে যানজটের কারণে বহু পরীক্ষার্থীকে গাড়ি ছেড়ে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়।
রাজধানীর উত্তরা এলাকার রাজউক মডেল কলেজ এবং উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনের মূল সড়কে অসংখ্য অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের পর অনেক অভিভাবক গেটের সামনে ও প্রধান সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বারবার মাইকিং করে তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়। জটলার কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পরীক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের শিক্ষার্থী নয়, ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী অন্যান্য কেন্দ্রগামী পরীক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে কেন্দ্রের সামনে মাইকিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, পরীক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করেন এবং মোবাইল ফোন ও স্মার্টওয়াচসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে না আনেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, সন্তানদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে এবং গেটের সামনে ভিড় না করতে।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিকের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত যানবাহনে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে নিকটবর্তী কম ব্যস্ত স্থানে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরীক্ষা শেষে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে গাড়িতে উঠতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালীন যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আগেই সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবুও রাজধানীর কেন্দ্রগুলোর সামনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় কর্তৃপক্ষ।

