ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন ও গুলশানে ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করল এমজিআই

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:৪২ এএম

নগরজীবনের দৈনন্দিন কেনাকাটাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে রিটেইল ব্যবসার উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। প্রতিষ্ঠানটি একযোগে ঢাকার মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এর ৯টি স্টেশন এবং গুলশান-১ আউটলেট উদ্বোধন করেছে। সম্প্রতি গুলশান-১-এর হাউস-৪৮, রোড-৩৪-এ অবস্থিত ‘ফ্রেশ সুপার মার্টটি’ উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমজিআইয়ের ডিরেক্টর তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা, ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তায়েফ বিন ইউসুফ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হেড অব এক্সপোর্ট সামিরা রহমান এবং ওয়াশিকুর রহমান ও রাশিক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গুলশানের আউটলেটের পাশাপাশি ফ্রেশ সুপার মার্টের নতুন শাখা চালু হয়েছে মেট্রোরেলের মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা নর্থ সি গেট এবং উত্তরা নর্থ ডি গেট স্টেশনে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে তেজগাঁও, মেঘনাঘাট এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড)-এ তিনটি আউটলেট চালু করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের নগরজীবন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ব্যস্ত মানুষের কেনাকাটার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা চাই, প্রতিদিনের যাত্রাপথেই গ্রাহকরা যেন সহজে, দ্রুত এবং মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি আধুনিক উদ্যোগ, যা দেশের রিটেইল খাতে নতুন মানদ- তৈরি করবে।’ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এমজিআই ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মানসম্মত পণ্যের বিশ্বস্ত নাম। গ্রাহকদের হাতে এমজিআই ব্র্যান্ডেড পণ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি খুবই সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

দেশের খুচরা বাজারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আধুনিক সুপারশপ ও ব্র্যান্ডভিত্তিক রিটেইল শপ এখনো পাঁচ শতাংশেরও কম। অথচ বিশ্বের অনেক উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে আধুনিক সুপারশপের উপস্থিতি অনেক বেশি দেখা যায়। আমরা সেই ব্যবধান কমাতে কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে সারা দেশে আরও ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

দেশের বিদ্যমান সুপারশপ ও হাইপারমার্কেটগুলোর তুলনায় ফ্রেশ সুপার মার্ট ভিন্ন ধারণা নিয়ে এসেছে। ব্যস্ত মানুষের চলার পথেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটার সুবিধা পৌঁছে দিতে ছোট পরিসরের এসব আউটলেট গড়ে তোলা হয়েছে। টোকিও, সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরগুলোতে এ ধরনের মডেল ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী বহন করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর এ সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ফ্রেশ সুপার মার্ট প্রতিদিন লাখো যাত্রীর নাগালের মধ্যেই থাকবে এবং তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটাকে আরও সহজ করবে।

প্রতিটি আউটলেটে দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালিসামগ্রী, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা পণ্য, কসমেটিকস এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ইন-স্টোর ক্যাফেতে কফি ও বিভিন্ন স্ন্যাকস উপভোগের সুযোগ থাকবে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যও বিক্রি করা হবে। বাংলাদেশের খুচরা বাজারে ফ্রেশ সুপার মার্ট প্রবেশ করছে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাময় একসময়ে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশের খুচরা বাজার গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। অথচ আধুনিক খুচরা বাজারের অংশ এখনো মোট বাণিজ্যের পাঁচ শতাংশেরও কম, যেখানে এশিয়ার অনেক অর্থনীতিতে এ হার ১২ থেকে ২৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে।