ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে নিজের পরিবেশনার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। কানাডায় অনুষ্ঠিত এ আসরে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি ও ফরাসি পপশিল্পী ভেজিড্রিমের সঙ্গে ‘সির সির’ গান পরিবেশন করেন তিনি। এ সময় তার পরনের বিশেষ নকশার মেরুন স্যুটে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং লাল-সবুজ পতাকার প্রতিচ্ছবি।
পারফরম্যান্সের সময় সঞ্জয় বারবার তার স্যুটের হাতার নকশার দিকে ইশারা করে বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই দেশাত্মবোধক উপস্থাপনা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘সির সির’ গানটিতে সঞ্জয়ের এই পারফরম্যান্স এবং এর কালচারাল ইমপ্যাক্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বিবিসি নিউজ, সিএনএন এবং দ্য ন্যাশনালের মতো বিশ্বের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো। বিবিসি নিউজ তাদের বিশেষ ফিচারে পশ্চিমা ইলেকট্রনিক বিটের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় ছোঁয়ার এই মেলবন্ধনকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
আর মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানে সাধারণত এ রকম মুহূর্ত খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই এটি শুধু আমার নিজের জন্য কোনো মুহূর্ত নয়, এটি আসলে আমার পুরো দেশের জন্য একটি বড় মুহূর্ত। আর হ্যাঁ, আমি আমার দেশের মানুষ ও আমার বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত গর্বিত এবং হ্যাঁ, আমার সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে।’
এই আনন্দের মাঝে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হলো, বিশ্ব মাতানো এই গানটির কো-প্রডিউসার এবং লিরিকেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। সঞ্জয়ের সঙ্গে এই গানের সহ-প্রযোজনা এবং লিরিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের আরেক কৃতী সন্তান রাসেল আলি। আন্তর্জাতিক এই প্রজেক্টে তাদের দুজনের এই মেলবন্ধন বাংলা সংস্কৃতির বৈশ্বিক যাত্রায় এক নতুন পালক যুক্ত করল।
শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয়ের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বিভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাই তার সংগীত পরিচয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন।

