× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

এফ এ শাহেদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০১:০৬ এএম

অগ্নিপরীক্ষায় দলীয় প্রধানরা

এফ এ শাহেদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০১:০৬ এএম

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

সারা দেশের মতো রাজধানীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানরা নিজ এলাকার আসন বেছে নেন। প্রথাগত সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানরা এবার নির্বাচন করছেন রাজধানীর আসনগুলোতে। তাদের এই ভোটযুদ্ধ জন্ম দিয়েছে বিশেষ আলোচনার। এদিকে দলগুলোর প্রধানরাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জোরেশোরে প্রচারের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চান তাদের আসন। তারা মনে করছেন, ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন। যদিও কেন্দ্র দখল বা ভয় দেখিয়ে কারসাজির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। তবে যে কোনো বাধা পেরিয়ে জয় নিশ্চিতেই তৎপর তারা, কারণ এটা তাদের মর্যাদা রক্ষার ও মানসম্মানের প্রশ্ন। বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় প্রধানদের নির্বাচন ঘিরে রাজধানীর ভোটে অন্য মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তবে সব দলীয় প্রধানই যে সহজ জয় পাবেন, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এক অর্থে এটা দলীয় প্রধানদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।      

রাজধানী ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী ও ভাষানটেক) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর ও আদাবর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন করছেন। চার দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর রয়েছে আসন চারটির দিকে। ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানের জয় বা পরাজয়কে রাজনৈতিকভাবে শক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। অতীতে ঢাকার আসন থেকে দলীয় প্রধানদের পরাজয়ের রেকর্ডও রয়েছে, যা বাড়তি সচেতনতা সৃষ্টি করেছে।

ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় প্রধানরা : ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। গত ২৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ার পর তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। যদিও এর আগে এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। পরে তারেক রহমানের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে তিনি ভোলা-১ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। এই আসনে তারেক রহমানের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচার চালিয়ে আসছেন।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের জয়ের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, জনগণই এই নির্বাচনে তাদের ভোটের মাধ্যমে আগামী দিনে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নির্ধারণ করবেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তারা ধানের শীষ প্রতীক বেছে নেবেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গুলশান এলাকার মানুষ আনন্দিত হবেন। কারণ এই এলাকা থেকেই বিএনপির কর্ণধার, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করছেন। আমরা বিশ^াস করি, জনগণের বিপুল ভোটে তারেক রহমান নির্বাচিত হবেন এবং আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জের এক সমাবেশে বলেন, বিগত ১৫ বছরে দেশে এমন কোনো নির্বাচনি জনসভা হয়নি এবং মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। দেশকে নিরাপদ করতে হলে ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মূল কাজ হচ্ছে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা। দেশের মানুষ এখন একটি ভালো পরিবর্তন ও নিরাপদ রাষ্ট্র চান, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবেন।

ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই এই এলাকায় নিয়মিত প্রচার চালিয়ে আসছেন। এদিকে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন। এবার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দিনাজপুরে নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, আমরা আর কাউকে পিছিয়ে রাখতে চাই না। আপনাদের সকলের হাতে মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চাই। প্রত্যেক যুবক-যুবতি, প্রত্যেক নাগরিককে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তবে গত ২৮ জুন এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নাহিদ ইসলামকে সমর্থন দেন। বর্তমানে জামায়াতের জনশক্তি নিয়ে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।

‘জনসমর্থনের জোয়ার দেখে একটি পক্ষ ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোটকেন্দ্র দখল বা ভয় দেখিয়ে মানুষকে সরানোর চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাহিদ বলেন, জনগণ ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে এবং তাদের প্রকৃত প্রতিনিধিকে বিজয়ী করবে।

ঢাকা-১৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তার পক্ষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও তার সম্মানে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। প্রতীক বিধিমালা অনুযায়ী তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।

মাওলানা মামুনুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। ’৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-১৩ আসনকে সাজাব। তিনি বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ইনশা আল্লাহ বিভেদের রাজনীতির দিন শেষ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা যা করতে পারব, তা-ই বলব। যা বলব জীবন দিয়ে বাস্তবায়ন করব, ইনশা আল্লাহ।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে অতীতে বড় দলগুলোর প্রধানদের জয় ও পরাজয়ের দুই ধরনের নজিরই রয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই পরাজিত হন। ঢাকা-১০ আসনে তিনি বিএনপির আব্দুল মান্নানের কাছে এবং ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির সাদেক হোসেন খোকার কাছে পরাজিত হন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয়লাভ করেন। তিনি ওই নির্বাচনে এক লাখ ২৩ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এবার তিনি নিজ দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে ঢাকায় বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের পরাজয়ের নজির রয়েছে। তাদের মতে, এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দলীয় প্রধান ঢাকার আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানের পরাজয় ইমেজ সংকট তৈরি করতে পারে বলেই সাধারণত নেতারা ‘সেফ জোন’ বেছে নেন। তবে এবারের রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়ায়, তা বিশ্লেষণসাপেক্ষ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!