× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পারভেজ খান

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৫:২৩ এএম

জঙ্গি ফেরার সংকেত

পারভেজ খান

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৫:২৩ এএম

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশে কি আবারো সশস্ত্র জঙ্গি তৎপরতার উত্থান ঘটতে যাচ্ছে? নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব সংগঠন কি সক্রিয় হচ্ছে? বাংলাদেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দলীয় সদস্য কেন? কি চায় এরা? আকসার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত। টিটিপি আর আকসার মধ্যে কি সম্পর্ক? রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জে পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের চার সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্নগুলো এখন আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্তদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পেরেছে, এরা সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। সেটা কী, কেন এবং কার স্বার্থে? আশঙ্কার আরেকটি কারণ হচ্ছে, উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মেটাল ডিটেক্টর এবং ড্রোন।

এদিকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বা ভিন্নমত নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব ও পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গি নেই- এ কথা পুরোপুরি বলা যাবে না। দেশে জঙ্গি আছে, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা অনেকাংশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি বা উগ্র তৎপরতার কোনো অস্তিত্ব নেই। পৃথিবীর সব দেশে কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে, থাকে কিছু রেডিকেল ফোর্স ও ফান্ডামেন্টাল পলিটিক্যাল পার্টি। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এমন তৎপরতা বা শব্দের প্রয়োগ করার মতো পরিস্থিতি নেই। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এসব বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।

উচ্চপদস্থ একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদককে বলেন, দেশে এখন উগ্রপন্থি বা জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য অস্তিত্ব নেই বলে তারা যে গুপ্ত অবস্থায় নেই, সেটা বলা বা ভাবা কোনোটাই ঠিক হবে না। সরকার সেটা ভাবছেও না। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনেরই প্রকাশ্য অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে আকসা অথবা টিটিপির কোনো স্বীকৃত সাংগঠনিক শাখা বা স্থায়ী নেটওয়ার্কের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত তদন্তে যা মিলেছে তা মূলত অনলাইন কনটেন্ট অনুসরণ বা আদর্শ অনুসরণ করে যোগাযোগের স্তরে সীমিত। তবে এটা চিহ্নিত আর বিস্তার রোধ করা না গেলে এরাই একসময় ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এদের কখনো কখনো রাজনৈতিকভাবেও মদদ দেওয়া হতো, করা হতো ব্যবহার।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি মূলত পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র জঙ্গি জোট। এই সংগঠনটি ২০০৭ সালে গঠিত। তাদের প্রধান লক্ষ্য, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা; কার্যক্রমের কেন্দ্র খাইবার পাখতুনখাওয়া ও আফগান সীমান্তবর্তী এলাকা। টিটিপি আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। এই কারণে বাংলাদেশে তাদের শাখা বা অনুসারী থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বাংলাদেশে টিটিপি সরাসরি কোনো শাখা খুলেছে এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকাশ্যে দেয়নি। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্রিফিংয়েও এই দাবি করা হয়েছে।

তবে এটাও বলা হয়েছে, দেশে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর বড় অংশ ইন্টারনেট নেটওয়ার্কভিত্তিক। এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর আদর্শগত অনেক মিল থাকলেও এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রত্যাবর্তনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর গতিবিধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানেও টিটিপির হামলা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এ ধরনের কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। কিন্তু পাওয়া যায়নি বলে আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে এই চার সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনা অনেক প্রশ্নকেই আবার নতুন করে সামনে আনছে।

একজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসকা কিংবা টিটিপির মতাদর্শ অনলাইনে সহজলভ্য। কেউ তা অনুসরণ করলে তাকে টিটিপির সাংগঠনিক সদস্য বলা যায় না। তবে ভয়ংকরের পথে যাত্রা শুরুর আগে বা পা ফেলার আগে তাদের রোধ করা না গেলে দেশের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। এখন গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়গুলো ভাবতে হবে। নতুন করে যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব শুধু পুলিশকে না দিয়ে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এসব নিষিদ্ধ সংগঠন নিয়ে ভালো ধারণা রাখেন যারা, তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এদের পাতি বা নব্য নেতা বলে হালকা করে দেখার কিছু নেই। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা যাতে ঝিমিয়ে না পড়ে বা দুর্বল না হয়, সেদিকটাতেও কড়া নজর রাখতে হবে।

সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, কিছু স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক জিহাদি সংগঠনের আদর্শ, বক্তব্য বা কৌশল অনুসরণ করতেই পারে। পাশাপাশি নতুন বা ছোট সংগঠন নিজেদের প্রচারে আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু সেটি সাংগঠনিকভাবে টিটিপির অধীন- এমন দাবি করতে হলে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব-নির্দেশ- এসবের প্রমাণ প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে আসেনি। এগুলো থাকলে সেটা খুঁজে বের করা দরকার সবার আগে। না হলে আশঙ্কা আর আতঙ্ক দুটোই থেকে যাবে।

অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কায়কোবাদ গতকাল টেলিফোনে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বাস্তবে এ দেশে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক অস্তিত্ব নেই বলে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। ‘স্লিপার সেল’ আর ‘অনলাইন র‌্যাডিকালাইজেশন’- এই দুটোও বাস্তব এবং বড় ঝুঁকি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উগ্রবাদী প্রচার ছড়িয়ে পড়ে। এতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, বাড়তে পারে সদস্য সংখ্যা। সেটাও একসময় ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। ফলে বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, অথবা নেই নেই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় এখনো আসেনি। সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ডিভাইসগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে সঠিক তদন্ত করা উচিত। মনে রাখতে হবে, বর্তমানে ঝুঁকি মূলত ছোট সেল বা ‘লোন উলফ’ ধরনের মনে হলেও অনলাইন র‌্যাডিকালাইজেশন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বজ্রপাতের আগে মেঘের গর্জন।

এ বিষয়ে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, টিটিপি, আসকা, আইএস বা আল-কায়েদা- এসব সংগঠনের কনটেন্ট ইন্টারনেটে সহজলভ্য। ফলে কোনো ব্যক্তি সেই কনটেন্টে প্রভাবিত হলে আদর্শগত সংযোগ তৈরি হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার মনিটরিং এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন যোগাযোগ বা রিক্রুটমেন্টের চেষ্টা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার মতে, সিটিটিসি সব সময় এটাই মনে করে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

গ্রেপ্তার চার সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য আর তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিবি সূত্র জানায়, ‘আকসা’ নামে পরিচিত সংগঠনটি সম্প্রতি তাদের নজরে আসে। এটি একটি নিষিদ্ধ উগ্রবাদী প্ল্যাটফর্ম, যা অনলাইনে ধর্মীয় উসকানি, চরমপন্থি মতাদর্শ প্রচার এবং গোপনে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচার, সদস্য সংগ্রহ এবং বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত বলে স্বীকার করেছে। তারা কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলা চালানো এবং সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। বিশেষ করে কী কাজে ড্রোন ব্যবহার করত, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এর বিশ্বাসযোগ্য সঠিক উত্তর এখনো মেলেনি।

সূত্র আরও জানায়, এই চারজন এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপে গ্রুপ পরিচালনা  করতেন। এ ছাড়া বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের ভিডিও ও আদর্শের প্রচার ছড়ানো, তরুণদের ‘হিজরাহ’ ও ‘জিহাদে’ উদ্বুদ্ধ করাসহ ক্ষুদ্র অনুদান সংগ্রহের চেষ্টাও তারা করছিলেন। তবে তাদের ভাষ্যমতে, আদর্শিক প্রভাব বিস্তার ছিল মূল লক্ষ্য। এই আদর্শ বিস্তারের সঙ্গে অস্ত্রের কি সম্পর্ক সেটা তারা স্পষ্ট করে জানাননি। ফলে এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে কি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর আদর্শিক শাখা বিস্তার ঘটছে? নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো কি নতুন নামে, নতুন কৌশলে সক্রিয় হচ্ছে?

ডিবি পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো সম্ভাবনাকেই ছোট করে দেখা হচ্ছে না। সাইবার মনিটরিং জোরদার, সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট ট্র্যাকিং জোরালো করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রেপ্তারকৃত চার সদস্যের ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিসরের। তবে এটি একটি বড় বাস্তবতার ইঙ্গিত। উগ্রবাদ এখন আর কেবল সীমান্ত বা পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি ডিজিটাল জগতেরও চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে টিটিপির আনুষ্ঠানিক শাখার প্রমাণ না মিললেও আদর্শিক প্রভাবের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা কি যথেষ্ট শক্তিশালী, নাকি ছায়ার আড়ালে আবার গড়ে উঠছে নতুন নেটওয়ার্ক?

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কোনো প্রকার অবহেলা নয়, চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকা, ধারাবাহিক সাইবার নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধই হবে প্রতিরক্ষা আর প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। এটিকে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। উগ্রবাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো, আগাম সংকেতকে অবহেলা করা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!