প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। কৃষকদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের বীজ ও কীটনাশক ক্রয়ের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এককালীন আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার সকালে কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নের বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করার পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরসঙ্গী ছিলেন। পাতালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর মাসুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে গতকাল রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে।
পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শেষ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোয় দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সব প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে যে, এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’ এ দেশ আমাদের সবার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা। এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সে জন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের সন্তানেরা শান্তিতে থাকতে পারবে।’
বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি, তাহলে আমাদের সন্তানেরা দুঃখ-কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায়, নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সে জন্যই আমরা একটি কথাই বলিÑ করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ।
সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভা। বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
দিনের শেষভাগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি একটি সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আগেই কক্সবাজারে পৌঁছে সফর-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্যকালে এই ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন পরেই মাতারবাড়ী বন্দর চালু হবে। আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কটি অন্তত ৬ লেন হওয়া উচিত। এ সময় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে শিগগির এর কাজ শুরু হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পায় না। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি দাম নির্ধারণ করব, যাতে লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়।

