ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমার ওপরে তিন নদী

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৬:০৪ এএম

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়াও সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক পানির চাপ বেড়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজার, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানিতে প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে সন্ধাকুড়া, হলদিগ্রাম, তামাগাঁও, দিঘিরপাড়, বনগাঁও, চতল, বাঘেরভিটা, ঝিনাইগাতী, পাগলারমুখ, সূরিহারা, কালিনগর ও বগাডুবিসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও সড়ক। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং অনেক স্থানে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, কৃষিজমিতে পানি ঢুকে উঠতি ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত পশুর ক্ষতিও হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী বাজারে নিয়মিত পানি প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ তাদের। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও কোথাও বাঁধের পাশের মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে ঢলের পানি নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।