কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই ভরা মৌসুমে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ও দেশি চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় চালের পাইকারি দাম কেজিতে বেড়েছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা। একই সঙ্গে দেশি চালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগেও হিলি বন্দরে ভারতীয় সম্পা নাজির চাল বিক্রি হয়েছে কেজি ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা দরে। বর্তমানে সেই চাল পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকা কেজি দরে। এছাড়া দেশি স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৫২ টাকা, মিনিকেট জাতের চাল ৬০-৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৬৪-৬৫ টাকা এবং আটাশ জাতের চাল ৫০-৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকারক ও মিল মালিকদের কারসাজির কারণে চালের দাম বেড়েছে। তাদের দাবি, আমদানিকারকদের গুদামে পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকলেও দাম বাড়িয়ে বাজারে ছাড়ছেন তারা। আমদানি বন্ধের অজুহাতে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২১ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছে। আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি নি¤œআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ সময়ে চালের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আমদানি চালু হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়লে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

