ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

৯ বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নে পরীক্ষা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

সাধারণ ৯টি এবং মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার বেশি। পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি বেড়েছে পরীক্ষাকেন্দ্র ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে।

গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরীক্ষাসংক্রান্ত নানা তথ্য উপস্থাপন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা আজ শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। ব্যাবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। আজ বাংলা প্রথম পত্রের (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৮ আগস্ট শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি মন্তব্য করে ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও এগিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এ ছাড়া পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর পাশাপাশি অমরা খাতা দেখার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে আছি। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে ট্রেনিং দেওয়া হবে। আবার একজন শিক্ষক আগে যেমন অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন বা খাতা দেখতেন; সেটা কম দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।’

মন্ত্রী জানান, আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নে শুধু নম্বর গোনা হতো, এখন তা হবে না। প্রকৃতপক্ষেই পুনর্মূল্যায়ন হবে। যা-তা করে খাতা দেখে নম্বর দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো না পড়ানোয় সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে ক্লাসে ভালো পড়ানোর ব্যবস্থা হয়। পরীক্ষাগুলো দ্রুততম সময়ে সাজিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কোচিং-বিমুখ করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি ‘৩৬০ ডিগ্রি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে রূপান্তর করার কাজ চলছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করতে একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার গঠনের পর আমাদের হাতে মাত্র সাড়ে চার মাস সময় রয়েছে। এত অল্প সময়ে দৃশ্যমান বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন কিংবা আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপানোর জন্য সময় খুব সীমিত। তবে তার পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর সুচিহ্নিত ভিশন অনুযায়ী সব দিকনির্দেশনা পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশ করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সচিব জানান, দেশজুড়ে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এবার ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯টি সাধারণ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশিÑ ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হবে।